মো: আনিছুর রহমান, বেনাপোল প্রতিনিধি:
দেশ
থেকে স্বৈরতন্ত্রের অবসান এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে রাজনৈতিক ও
নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন
মহলে যেসব সংস্কারের কথা আলোচিত হচ্ছে, তার একটি সুনির্দিষ্ট ও দূরদর্শী
রূপরেখা আজ থেকে দুই দশক আগেই প্রণয়ন করেছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মো: সরোয়ার সেখ।
২০০৬ সালে তাঁর প্রণীত ‘সার্বজনীন নির্বাচনী ফর্মুলা’ বাস্তবায়ন করা গেলে
দেশ থেকে স্বৈরতন্ত্র ও দুর্নীতি দূর হতে বাধ্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর এই সংস্কার প্রস্তাবনাটি নতুন করে আলোড়ন
সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এখন এই ফর্মুলার বিভিন্ন পয়েন্টের সাথে একমত পোষণ
করছেন।
ফর্মুলার মূল প্রস্তাবনাসমূহ:
ভবিষ্যতে দেশে যেন আর কোনো
স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিবাজের জন্ম না হয়, সেজন্য ইঞ্জিনিয়ার সরোয়ার মূল
সংস্কার হিসেবে কয়েকটি যুগান্তকারী শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন:
দুই
মেয়াদের সীমাবদ্ধতা: প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে ইউনিয়ন
পরিষদের মেম্বার পর্যন্ত যত নির্বাচনী পদ আছে, সকল পদে কেউ একাধারে ২ বারের
বেশি প্রার্থী হতে বা নির্বাচিত হতে পারবেন না।
যোগ্যতার মাপকাঠি: প্রত্যেকটি নির্বাচনী পদের জন্য নির্দিষ্ট শিা, বয়স ও স্বাস্থ্যগত যোগ্যতা থাকার কঠোর শর্ত নির্ধারণ করতে হবে।
দলের
অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র: রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী মনোনয়নের েেত্রও এই একই
নিয়ম ও যোগ্যতার শর্ত অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
আয়কর যাচাই: নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পূর্বে আয়কর রিটার্ন জমার বিপরীতে কঠোর বিভাগীয় প্রতিপাদন বা সঠিক যাচাই পদ্ধতি চালু করতে হবে।
সম্পদের
প্রকাশ: স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ৫ থেকে ১০ কোটির অধিক সম্পদ রয়েছে এমন
ব্যক্তিদের সম্পদের বিবরণী জনসমে (পাবলিকলি) প্রকাশ করতে হবে।
"আমি না থাকলেও বাস্তবায়ন হবে একদিন"
নিজের
এই দীর্ঘদিনের লালিত ফর্মুলা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে চীফ ইঞ্জিনিয়ার
সরোয়ার বলেন, "২০০৬ সালে প্রণীত এই সার্বজনীন নির্বাচনী ফর্মুলা বাস্তবায়ন
হলে দেশ থেকে স্বৈরতন্ত্র ও দুর্নীতি দূর হতে বাধ্য। অনেকেই এখন এর কিছু
কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলছেন। বাস্তবায়নও হবে একদিন... হয়তো সেদিন আমি থাকব
না।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি জবাবদিহিতামূলক
রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে পদের মেয়াদ সুনির্দিষ্ট করা এবং প্রার্থীদের শিাগত ও
আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ইঞ্জিনিয়ার সরোয়ারের এই
ফর্মুলাটি বর্তমান প্রোপটে দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের একটি কার্যকর গাইডলাইন
হতে পারে।